কয়দিন থেকে হঠাৎ করেই বেশ মাথাব্যথা করছে সৌমিকের। একপাশের ঘাড় আর মাথা এমন ব্যথা হচ্ছে, মনে হচ্ছে পুরো পাশটাই ব্যথায় জমাট বেঁধে আছে। প্যারাসিটামল, পেইনকিলার খেয়েও ব্যথা কমছে না। এই ব্যথায় না হচ্ছে ভালো ঘুম, না হচ্ছে কোনো কাজ। শেষে না পেরে চিকিৎসকের কাছে যেতেই হলো। চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা করে জানালেন, হঠাৎ ঠান্ডা থেকেই তার এমন সমস্যা। সৌমিকের প্রশ্ন, ঠান্ডা লেগেও মাথাব্যথা হতে পারে?
হতে পারে। শুধু মাথাব্যথা নয়, অন্য আরো অনেক রোগ হতে পারে। আমরা কেবল জানি ঠান্ডা থেকে সর্দি, কাশি, জ্বর, গলাব্যথা, শ্বাসকষ্ট হয়। কিন্তু অনেক বড় ধরনের রোগও হঠাৎ করে আক্রমণ করতে পারে আপনাকে।
শুরুতেই বলি মাইগ্রেন প্রসঙ্গে। এই সমস্যাটি অনেকেরই আছে। বিভিন্ন কারণে এই রোগটি হয়। অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরমের সমস্যা থেকেও মাইগ্রেন হতে পারে। মাথায় ঠান্ডা বসলে বা খোলা কান দিয়ে ঠান্ডা মাথায় ঢুকলে মাথায় তীব্র ব্যথা হয়। এই ব্যথা দীর্ঘদিন পর্যন্ত থাকতে পারে। তাই মাথায় কখনো ঠান্ডা লাগতে দেবেন না। মাফলার, টুপি বা হালকা চাদর পরে নেবেন।
ব্রংকাইটিস: কাশি দীর্ঘমেয়াদি হলে আক্রান্ত ব্যক্তির ফুসফুসে প্রদাহ সৃষ্টি হয়, ফলে ধীরে ধীরে ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। কাশি যত বেশিদিন থাকে, ফুসফুসও ততবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটাই ব্রংকাইটিস। সাধারণত মধ্যবয়স থেকে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। ঠান্ডা লাগার পরে তা যদি বসে যায়, সেটা থেকে ব্রংকাইটিসের সমস্যা মাথাচাড়া দেয়।
ব্রেন স্ট্রোক: ব্রেন স্ট্রোক এখনকার দিনে অন্যতম ভয়াবহ রোগ। কার কখন কীভাবে মাথায় মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ হয়, আগে থেকে তা বলা যায়না। হঠাৎ করে ঠান্ডা পড়লে বা মাথায় ঠান্ডা লাগা থেকে ব্রেন স্ট্রোকের আশঙ্কা থাকে। ঠাণ্ডায় শরীর এবং মাথার রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এ থেকে ব্রেন স্ট্রোকের একটা ভয় থাকেই। তাই শীতের দিনে সাবধান থাকুন, ঠান্ডা এড়িয়ে চলুন।
নিউমোনিয়া: ঠান্ডায় নিউমোনিয়া একটি প্রচলিত রোগ। শিশু এবং বৃদ্ধরা এই রোগের ঝুঁকিতে বেশি থাকে। শীতের শুরুতে অর্থাৎ জলবায়ু পরিবর্তনের সময়ে এই রোগ বেশি দেখায যায়। তাই আপনার বাড়ির শিশু আর বৃদ্ধদের একটু বেশি সাবধানে রাখবেন অবশ্যই।
মেনে চলুন কিছু বিষয়
১. আশেপাশের ঠান্ডায় আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে দূরে থাকুন। কাশি কিংবা সর্দি থেকে জীবাণুগুলো বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়। আর বারবার আপনার হাত দুটো ধুতে হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঠান্ডা ছড়ায় পরোক্ষ শারীরিক সংস্পর্শে। অর্থাৎ একজন অসুস্থ ব্যক্তির ঠাণ্ডার জীবাণু নাক ও মুখ থেকে হাতে স্থানান্তরিত হয়।
২. বেশি করে তরল পান করুন। এতে করে আপনার শরীর থেকে জীবাণু চলে যাবে। আবার জীবাণুর কারণে যদি শরীরে পানিস্বল্পতা হয়, সেই সমস্যাও কমে যাবে। এ সময় দিনে কমপক্ষে আট গ্লাস পানি, ফলের রস কিংবা অন্যান্য ক্যাফিনমুক্ত তরল খাওয়া উচিত।
৩. বিছানা ছেড়ে ব্যায়াম করুন। এই ঠান্ডার মৌসুমে সপ্তাহে অন্তত তিনবার মুক্ত বাতাসে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট হালকা ব্যায়াম করুন। যেমন- হাঁটাহাঁটি, সাইকেল চালানো বা বিভিন্ন ছোটখাট ব্যায়াম শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করে।
৪. রান্নাঘরের সামগ্রী জীবাণুমুক্ত রাখুন। রান্নাঘরের বড় শত্রু হলো স্পঞ্জ ও ডিশব্যাগ। এগুলো উষ্ণ ও ভেজা থাকে বলে এখানে ঠাণ্ডার জীবাণু বংশ বৃদ্ধি করে। এই জীবাণুকে দূর করার ভালো উপায় হলো সপ্তাহে দু’তিনবার ডিশওয়াশার দিয়ে এগুলো পরিষ্কার করুন।
৫. ভিটামিন ই ও সি দুটোই দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে। এজন্য এসময়ের তাজা শাকসবজি আর ফলমূল বেশি করে খাবেন। আর বেশি ঠান্ডা বলে বাড়ির বাইরে যাবেন না, তা নয়। বারান্দা, ছাদে যান। হাঁটাহাঁটি করুন, গায়ে রোদ লাগান বেশি করে।
৬. অ্যালকোহল পরিহার করুন একেবারে। ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচতে অনেকেই ভাবেন অ্যালকোহল বোধহয় শরীর গরম করবে। কিন্তু মোটেই তা নয়। যাদের উচ্চরক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট, ডায়বেটিসের সমস্যা আছে, তাদের তো কোনোভাবেই এসময় অ্যালকোহলের নাম নেওয়া উচিৎ নয়।
৭. প্রতি রাতে ভালো করে ঘুমানোর চেষ্টা করুন। আমাদের অনেকেরই ঘুম নিয়ে সমস্যা রয়েছে। রাতে ভালোভাবে ঘুমালে শরীরের রোগ প্রতিরোধ কোষগুলোর ক্ষমতা বাড়ে। এতে করে শরীরের জীবাণুগুলো নিস্ক্রিয় হয়ে যায়। আবার মস্তিস্ক সচল থাকবে, স্ট্রোক বা মাইগ্রেনের সমস্যা দেখা যাবে না।
৮. গলাব্যথা হলে আরামদায়ক ব্যবস্থা নিন। কারণ এই গলাব্যথা থেকে মামস, টনসিল সৃষ্টি হতে পারে। তাই ঠান্ডা পানীয় থেকে দূরে থাকুন। লবণ-গরম পানি দিয়ে গড়গড়া দিতে পারেন। আদা চা ও মধু ভালো কাজ করে। তুলসির রসও সববয়সীদের জন্য উপকারী।
ঠান্ডা ও সর্দি-কাশি নিয়ে কিছু ভুল ধারণা
শীতকাল মানেই ঠান্ডা লাগা, সর্দি-কাশি! -এমন ভুল ধারণা অনেকের মনেই। এগুলো থেকে বাঁচতে নানা আচরণে পরিবর্তন আনা হয়, বলা হয় এগুলো করা যাবে না। এমন অনেক কিছু ‘মিথ’ রয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা তেমনই কিছু ভুল ধারণা ভেঙে দিয়েছেন গবেষণার মাধ্যমে।
চুমু খেতে মানা: স্বামী বা স্ত্রী -যেকোনো একজনের সর্দি-কাশি বা ঠান্ডা লাগলে অন্যজন শত ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও ভালোবাসার মানুষটির কাছ থেকে খানিকটা দূরে থাকে, যাতে সে নিজেও যেন অসুস্থ না হয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনুভূতিতে চুমু খাওয়ার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। কাজেই সর্দি, কাশিতেও চুমু খেতে বা জড়িয়ে ধরতে কোনো বাধা নেই।
অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল সাবান: যেকোনো ইনফেকশন বা সংক্রমণ রোগকে দূরে রাখার প্রথম শর্তই হলো হাত ধোয়া এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা। তবে তাই বলে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল সাবান হতে হবে তা নয়। বরং অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল সাবান হাতের ত্বক ও পরিবেশের ক্ষতি করতে পারে।
শীতকালে কি তাড়াতাড়ি সর্দি কাশি হয়? অনেকেরই ধারণা, শীতকালে গ্রীষ্মকালের চেয়ে তাড়াতাড়ি ঠান্ডা লেগে সর্দি-কাশি হয়, তবে তা ঠিক নয়। তবে গরমকালের ভাইরাস শীতকালের ভাইরাস থেকে আলাদা এ কথা ঠিক। আর সে জন্যই কিছুটা অন্যরকম সচেতনতা অবলম্বন করতে হয় বৈ কি!
আজ কাশি, কাল অসুস্থ? একটু কাশি হলেই মানুষ অসুস্থ হয় না -যদি না কারো শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। তবে কারো শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলেই কেবল হ্যান্ডশেক, তাদের রুমাল ব্যবহার করা, জড়িয়ে ধরা -এসবের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। তবে কারো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যথেষ্ট থাকলে ভয়ের কোনো কারণ নেই।
অসুস্থ অবস্থায় ব্যায়াম? খেলাধুলা বা ব্যায়াম করা ভালো তা সবাই জানে। অনেকেই ভাবেন -অসুস্থ হলে বা ঠান্ডা লাগলেও ব্যায়াম করলে সেরে যাবে, যা পুরোপুরি ভুল ধারণা। ঠান্ডা লাগলে বা সর্দি-কাশি হলে বিছানায় ঠিক মতো বিশ্রাম নিলেই তাড়াতাড়ি সেরে ওঠা সম্ভব।
সর্দি-কাশি থেকে ইনফ্লুয়েঞ্জা
সাধারণ ঠান্ডা লাগা আর ইনফ্লুয়েঞ্জাকে -এ দুটোকে অনেকে গুলিয়ে ফেলেন। দুটোর ভাইরাস দু’রকম। তবে সর্দি-কাশির ভাইরাস থাকা অবস্থায় ইনফ্লুয়েঞ্জার ভাইরাসও হতে পারে।
ঠান্ডা ও ইনফেকশন প্রতিরোধের সাধারণ কিছু উপায়
আজকে আপনি সুস্থ আছেন, পরেরদিনই হয়তো আপনার গলা খুসখুস করছে, চোখ জলসিক্ত হচ্ছে, নাকদিয়ে পানি পড়া শুরু হয়েছে এবং এনার্জি লেভেলও কমতে থাকে। এগুলোই হচ্ছে প্রাথমিক কিছু লক্ষণ ঠান্ডা ও ফ্লু এর। ঠান্ডা এবং ফ্লু এর এই লক্ষণ গুলো আমরা সবাই জানি। খুব অল্পদিন স্থায়ী হলেও খুবই বিরক্তিকর এই উপসর্গ গুলো। শীতকাল হচ্ছে ঠান্ডা এবং ফ্লু এর ঋতু। যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য পূর্বাভাস ইউনিটের চিকিৎসা পরামর্শক Dr William Bird এর মতে, “ডিসেম্বরে ইনফেকশনের প্রাদুর্ভাব হয়। আমরা কিছু উপায় অবলম্বন করে ঠান্ডা এবং ফ্লু এর ঝুঁকি কমাতে পারি”। আসুন তাহলে জেনে নেই ঠান্ডা এবং ফ্লু প্রতিরোধ করার সহজ ও প্রাকৃতিক কিছু উপায়।
বিশ্রাম নিন এবং চাপ কমান: ঠান্ডার সাথে যুদ্ধ করার জন্য মন ও শরীর গভীরভাবে সম্পর্ক যুক্ত। যদি আপনি ক্লান্ত অনুভব করেন, দুঃখিত বা রাগান্বিত হন ইত্যাদি আবেগ গুলো আপনার মনের উপর প্রভাব বিস্তার করে। এগুলো আপনার ইমিউন সিস্টেমকে ধীর করে দেয় যখন কিনা ঠান্ডার ভাইরাসের বিরুদ্ধে পূর্ণ শক্তি নিয়ে যুদ্ধ করা প্রয়োজন।
আপনার শরীরের ভাষা বোঝার চেষ্টা করুন তাহলে আপনি অনুভব করবেন যে ঠান্ডায় আক্রান্ত হতে যাচ্ছেন। তখন চাপ সামলে নেয়ার চেষ্টা করুন এবং পর্যাপ্ত ঘুমান। Estores বলেন, “যখন আপনি মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন তখন ঠান্ডায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়”।
সাধারণত আপনি যখন অনুভব করেন যে ঠান্ডা আসছে তখনই আপনার ইমিউন সিস্টেম ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে। আত্মরক্ষার জন্য কাজ করে যে কোষ গুলো তাদের সংখ্যা কমিয়ে দেয় স্ট্রেস। এছাড়াও শরীরের করটিসোলের লেভেল বাড়িয়ে দেয় স্ট্রেস। এই হরমোন ইমিউন সিস্টেমকে আঘাত করে।
ইমিউন সিস্টেমকে চাংগা করার জন্য গান শুনুন, মেডিটেশন করুন বা কোন কাজে ব্যস্ত হোন। বিশ্রাম নিতে ভুলবেননা যেন।
হাত ধোয়া বারবার: যত ঘনঘন হাত ধোবেন তত অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি কমবে। মনে রাখবেন ঠান্ডা ও ফ্লু ভাইরাসের জন্য হয় ব্যাকটেরিয়ার জন্য না। তাই ব্যাকটেরিয়া নাশক সাবান ঠান্ডা ও ফ্লু এর বিরুদ্ধে কাজ করেনা। এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, ব্যাকটেরিয়া নাশক সাবানের চেয়ে সাধারণ সাবান ও পানি ইনফেকশনের অসুস্থতার জন্য ভালো। এছাড়াও প্রচুর প্রমাণ আছে যে, অনেক ব্যাকটেরিয়া নাশক সাবানে ট্রাইক্লোজেন থাকে যা রেজিসটেন্ট ব্যাকটেরিয়া উৎপন্ন করে।
মুখে হাত লাগান কমান: ২০০৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় জানা যায় যে, টিপিক্যাল মানুষরা ঘণ্টায় ১৬ বার মুখে হাত লাগান। যদি আপনি চোখ, নাক ও ঠোঁটে স্পর্শ করা কমান তাহলে আপনার শরীরে ভাইরাস প্রবেশের ঝুঁকি বহুলাংশে কমে যাবে।
উষ্ণ থাকুন: উষ্ণতা কফ, ঠান্ডা ও ফ্লু এড়াতে সাহায্য করে। কনকনে ঠান্ডার কাঁপুনি ইমিউন সিস্টেমকে দমিয়ে দেয় এবং এর ফলে খুব সহজে ঠান্ডা আক্রমণ করতে পারে। সূর্যের আলোর মাত্রা কমে গেলে এবং হরমোনের পরিবর্তিত মাত্রা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে ইমিউন সিস্টেম কিভাবে কাজ করে তাঁর উপর। আমাদের শরীরের তাপমাত্রার ৩০% মাথা দিয়ে বাহির হয়ে যায়। তাই শীতের সময়ে মাথায় হ্যাট পড়ুন।
পর্যাপ্ত সময় ঘুমান: বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে যে, ঘুম শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব বিস্তার করে। অপর্যাপ্ত ঘুম ক্রনিক ডিজিজ যেমন- ক্যান্সার এবং স্মৃতিশক্তি থেকে শুরু করে ইমিউন ফাংশন পর্যন্ত সব কিছুকেই দুর্বল করে দেয়। কিছু গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, অপর্যাপ্ত ঘুম ঠান্ডা, ফ্লু এবং অন্য ভাইরাস দ্বারা আক্রমনের সুযোগ তৈরি করে। অন্য কিছু গবেষণায় এটাও প্রমাণিত হয়েছে যে, যদি আপনি ইনফেকশনের স্বীকার হন তাহলে ঘুমের মাত্রা ইনফেকশনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। সুতরাং ঘুম স্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ
এছাড়াও ঠান্ডা ও ফ্লু থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নিয়মিত শরীর চর্চা করুন, প্রচুর ভিটামিন ডি গ্রহণ করুন, পুষ্টি সমৃদ্ধ সুপার ফুড গ্রহণ করুন, ভিড় এড়িয়ে চলুন, রান্না ঘর পরিষ্কার রাখুন এবং খাবার নিরাপদ রাখুন।
যে ৬টি লক্ষণে বুঝবেন শীঘ্রই ঠান্ডা-জ্বর হতে যাচ্ছে আপনার!
একদিন কাঠফাটা গরম তো অন্যদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বৃষ্টি- এমন আবহাওয়ায় খুব সহজেই ঠান্ডা লেগে জ্বর আসতে পারে। জ্বর আসার আগে থেকেই কিছু লক্ষণ থেকে বোঝা যায় আপনি অসুস্থ হতে চলেছেন। জেনে নিন এসব লক্ষণ এবং তা সামলে নেওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায়-
ক্লান্তি: সাধারণত ক্লান্তি বোধ হলে আমরা নিজেকে আরও বেশি বেশি কাজ করার জন্য চাপ দিই। কিন্তু তা করা উচিৎ নয়। কারণ শরীর কোনো জীবাণুতে আক্রান্ত হলে তার প্রথম উপসর্গই হয় ক্লানি। ক্লান্তি বোধ হলে অবশ্যই রাত্রে অন্তত আট ঘণ্টা নিশ্ছিদ্র ঘুম প্রয়োজন। ঘুম কম হলে দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন আপনি।
বন্ধ নাক: সর্দি ভালো করে জেঁকে বসার আগেই অনেকের নাক বন্ধ হয়ে যায়। তখন বেশি বেশ করে পানি পান করা উচিৎ। ঠান্ডাজ্বরের ভাইরাস নাকের ওপরে আগে আক্রমণ করে। এ সময়ে যথেষ্ট পানি পান করলে ভাইরাস সুবিধা করতে পারেন না।
স্ট্রেস এড়িয়ে চলুন: স্ট্রেসের সাথে অসুস্থতার সংযোগ নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে। তবে মানুষ অসুস্থ হলে সহজে স্ট্রেসে পড়ে যায় এটা সত্যি। আর স্ট্রেস রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও দুর্বল করে দেয়। অফিসের বা পড়াশোনার কাজ করতে গিয়ে যদি একটুতেই স্ট্রেস অনুভব করেন আপনি, তারমানে আপনি দ্রুতই অসুস্থ হতে চলেছেন। এ সময়ে নিজেকে স্ট্রেস মোকাবেলার সময় দিন, বিশ্রাম দিন মন ও শরীরকে।
গলা খুসখুস: গলা ব্যথা বা চুলকানো অচিরেই অসুস্থতার পূর্বাভাস। গলা পরিষ্কার করতে হালকা গরম লবণ পানি দিয়ে কুলকুচি বা গার্গল করলে তা কমে যায়। এক গ্লাস গরম পানিতে আধা চা চামচ লবণ দিয়ে কুলকুচি করুন। তবে অবশ্যই এই পানি গিলে ফেলবেন না।
মাথা ভারী হয়ে থাকা: ঠান্ডা লাগার আগেই মাথা ধরে থাকা, মাথা ভারী হয়ে থাকার অনুভূতি হতে পারে। একে ক্লান্তি বা ঘুমের অভাব মনে করতে পারেন অনেকে। তবে তা দূর করার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো গরম পানিতে গোসল করে নেওয়া। গরম পানির বাষ্প মাথা ধরা এবং নাক বন্ধ হয়ে থাকার উপসর্গ দূর করে।
সাইনাসের ব্যথা: ঠান্ডা লাগার আগে অনেকেরই মুখমণ্ডল ব্যথা করতে পারে। এতে অবাক হবার কিছু নেই। কারও চোখের আশেপাশে ব্যথা করে, কারও গাল ব্যথা করে। মূলত সাইনাসের ব্যথাই অনুভব করেন তারা। এর জন্য সবচেয়ে ভালো প্রতিকার হলো গরম গরম চিকেন স্যুপ খাওয়া। এতে পিঁয়াজ ও রসুন দেওয়া হেলে আরও ভালো। চিকেন স্যুপ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে এবং সাইনাসের ব্যথা কমায়।
হালকা ব্যায়াম: বুকে কফ জমে যাওয়া বা বুক ভারী মনে হওয়াটা ঠান্ডা লাগার আরেকটি পূর্বাভাস। অসুস্থ হলে ব্যায়ামের কথা ভাবতেই পারেন না অনেকে। তবে বুকে কফ জমে গেলে হালকা ব্যায়াম তা কমাতে সাহায্য করে। তা ফুসফুস থেকে জীবাণু দূর করতে উপকারী। এর জন্য হাঁটতে পারেন বা যোগব্যায়াম করতে পারেন। এর পাশাপাশি অবশ্যই বেশি করে পানি পান করুন।
কাশি: অন্য কোনো উপসর্গ না থাকলেও হুট করে কাশি থেকে আপনি বুঝতে পারেন অনতিবিলম্বে জ্বর আসতে পারে। কাশি কমানোর সবচেয়ে ভালো উপায়টি কী? না, কফ সিরাপ নয়। বরং ঘুমানোর সময়ে কয়েকটি বালিশ দিয়ে মাথা উঁচু রেখে ঘুমান। এতে কাশি কমবে এবং নিঃশ্বাস নেওয়াও সহজ হবে।
শরীর খারাপ লাগা: শুধু ক্লান্তি বা স্ট্রেস নয়, সবকিছু মিলিয়েই শরীর খারাপ বা দুর্বল লাগতে পারে জ্বর আসার আগে। এ সময়ে ভিটামিন ডি এবং ভিটামিন সি খাওয়াটা আপনার জন্য উপকারী হতে পারে।
কমেন্টস করুন